জুনিয়ার এসইও প্রফেশনাল টাস্ক লিস্ট এবং ফ্রি এসইও অনলাইন কোর্স ও সাপোর্ট

আর্টিকেল পড়ার নিয়মাবলী

বিশ্বাস করেন, আর নাই করেন। অনলাইনে আপনি যদি কোন একটা কাজে পারদর্শী হয়ে শুরু করতে পারেন, তাহলে সফল হওয়া খুব সোজা। কিন্তু, আপনি যদি পারদর্শী না হয়ে কাজ করা শুরু করেন, তাহলে সম্পূর্ণ পরিশ্রম এবং সময়টাই নষ্ট।

এই কাজ কে আপনি ঠিক পরীক্ষা দেয়ার সাথে তুলনা করতে পারেন। আপনার প্রস্তুতি যদি ভাল থাকে, তাহলে পরীক্ষা ভাল হবে এইটা স্বাভাবিক অন্যথায় পরীক্ষার সম্পূর্ণ সময়টাই নষ্ট।

পরীক্ষায় ভাল করার জন্য যেমন নিয়মিত লেখাপড়া করা দরকার, এই খানেইও তার ব্যাতিক্রম না। তবে, এই খানে গতানুগতিক মুখস্থ বিদ্যার কোন দাম নেই। আপনার আসে পাসে হয়ত অনেক বন্ধু আছে যারা জ্যামিতি মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। তার ফলাফল যে কোন ভাবেই সুখকর না, এইটা বুঝতে বেশি সময় লাগে না।

আপনি খুব সহজেই অনলাইনের যে কোন কাজে খুব ভাল সাফল্য অর্জন করতে পারবেন এর জন্য দরকার তিনটা গুনঃ

  • ইংরেজিতে ভাল দক্ষতা
  • গণিত দেখলে ভয়ে দৌড় মারেন না
  • পরিশ্রম করার মানসিকতা

ইংরেজিতে ভাল দক্ষতা কি জন্য লাগবে, এ কথা আলোচনা করে সময় নষ্ট করার কোন যুক্তি নেই। এখন হয়ত আপনার মনেহতে পারে “আমাকে কি জন্য গণিতের ভয় দূর করতে হবে?” আসলে যদি আপনার গণিতের ভয় না থাকে, তাহলে যে কোন কাজ আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। কারণ, অনলাইনের প্রত্যেকটা কাজ চলে লজিকের উপর। আপনি জত ভাল লজিক বোঝেন, তত আপনার জন্য সুবিধা।

তবে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই, আপনাকে লজিকে ভাল হওয়ার জন্য অবশ্যই গণিতের উপর পিএইচডি করে আসা লাগবে না। আমার মনেহয়, এই আর্টিকেল যারা পড়ছেন তারা অন্তত মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করে আসছেন। যদি তাই হয়, তাহলে একটা কাজ করেন – ক্লাস ফাইভ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ইংরেজি এবং গণিত বইটা আর একবার ভালেভাবে শেষ করে আসেন।

এখন আপনার জন্য কোর্স লিস্টঃ

এখন আপনি অনলাইনে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। আপনি যে কোন ক্যাটাগরির কাজ এখন শিখতে পারেন।

ইবিটের ওয়েব ডিজাইন টিউটোরিয়াল দিয়ে শুরু করতে পারেন।

প্রিতিদিন যত টুকু শিখছেন, তারপর একটা করে আর্টিকেল লিখে পোস্ট করা শুরু করেন। কিন্তু কথা হল, পোস্ট করবেন কই? এর জন্য ব্লগস্পট বা ওয়ার্ডপ্রেসে একটা ফ্রী ওয়েবসাইট খুলে ফেলেন।

আর ঐ ভিডিও গুল দেখে শেষ করা মানেই কিন্তু, আপনার কাজ শেষ হয়ে গেল না। এইখানে আপনি কোন কোন ব্লগ গুল ফলো করতে পারেন, তার একটা কমপ্লিট লিস্ট আছে। ভিডিও গুল দেখার পাশাপাশি ব্লগের আর্টিকেল গুল পড়া শুরু করেন। আর গুগল ওয়েবমাস্টারের টুলস এবং গাইডলাইন দেখতে ভুলবেন না।

উপরের কোন জায়গায় অথবা কোর্সের কোন জায়গায় যদি আপনার বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে, আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার শর্ত ৪টাঃ

  • ছোট বেলায় রচনা লেখার কথা মনে আছে? আপনি হয়ত জিবনে অনেক কিসুর উপর রচনা লিখছেন, কিন্তু মানুষের উপর কোনদিন রচনা লেখেন নাই। তাই আপনার এই বারের রচনার টপিক “মানুষ”।
  • আর পরিবারের প্রত্যেক সদস্যর জন্য একটা করে ফলের এবং ঔষধি গাছ লাগান। আমি ধরে নিলাম, আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। তাহলে আপনার জন্য গাছের লিস্ট হতেপারে এ রকম- আম, কাঁঠাল, আমলকী, হরিতকী। প্রত্যেকটা গাছ লাগানোর পর সেলফি তুলে আপনার ফেসবুক প্রফাইলে আপলোড করে দেন। শুধু লাগালেই হবেনা, নিয়মিত তার যত্ন নিতে হবে।
  • অবশ্যই যে কোন ধরনের প্রশ্ন যতদূর সমভাব বাংলা ভাষার নিজেস্ব বর্ণমালা এবং শব্দ ব্যাবহার করে লিখবেন।
  • কোন ধরনের খেজুরে আলাপ টাইপের প্রশ্ন থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।

রচনাটা লেখা হয়ে গেলে, এই খানে মেইল করেন (biddrupkumarmallick@gmail.com) এবং সাথে আপনার ফেসবুক প্রফাইলের লিঙ্ক যেখানে আপনি ছবি গুলা আপলোড করছেন।

এরপর, ফিরতি মেইলে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে আপনাকে আমারা এই ফ্রী সার্ভিসের আওতায় রাখছি কিনা?

ফ্রী সার্ভিসের সুবিধাঃ

  • এসইও এবং ওয়েব ডিজাইনের উপর ডিভিডি ভিডিও সিরিজ এবং সাপোর্ট পাবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে।
  • কোর্সের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটা কাজের রিভিউ এবং কমেন্ট

এই সামান্য কাজ টুকু করার উদ্দ্যেশ্য একটাই। যখন মার্কেট প্লেসের কোন প্রজেক্টে লেখা থাকে বাংলাদেশীদের বিড করার দরকার নাই। তখন, মনেহয় লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাই। সেই দিনের স্বপ্ন দেখি যেদিন প্রোজেক্টের উপরে লেখা থাকবে শুধু মাত্র বাংলাদেশীরাই বিড করতে পারবে বাকিরা বীড করা থেকে দূরে থাকেন।

নোটঃ

  • দরকার হলে লিস্টে সংযোযন অথবা বিয়যোন হতে পারে।
  • কোর্স চলাকালীন সময়ে আপনি কোন ভাবেই অনিয়মিত হতে পারেবন না।
  • কোর্স শেষ আপনার সেই লাগান গাছ গুলর সাথে ছবি তুলে আপনার ফেসবুকে আবার আপলোড করা লাগবে।
  • আপনার যদি অযুহাত দেখানর অভ্যাস থাকে, তাহলে কোর্সে যোগদান না করাই ভাল।

একজন চৌধুরী সাহেব এবং তার পাগলা বন্ধু

জুনিয়ার এসইও প্রফেশনাল টাস্ক লিস্ট এবং ফ্রি এসইও অনলাইন কোর্স ও সাপোর্ট

 

নিচের লেখা গুল অতিমাত্রায় অশ্লীল কথা ব্যবহার করা, আপনি যদি অতি মাত্রায় ভদ্র হয়ে থাকেন তাহলে কিবোর্ড ctrl + w, প্রেস করেন।

আজকের আর্টিকেল একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

চৌধুরী সাহেবের পকেটে সকাল বেলা ১০০ টাকার একটা নোট ছিল। সে তখন বসে বসে ভাবছে, এই ১০০ দিয়ে আসলে এখন সে কি করবে? চৌধুরী সাহবের বাসা থেকে লিটন মামার বিখ্যাত পরাটার দোকানে হেঁটে গেলে প্রায় ২০ মিনিটের মত লাগে।

পকেটে ১০০ টাকা, রিক্সায় যাওয়া উচিৎ।

একজন রিক্সাওায়লা কে ডাক দেয়, “মামা, যাবা নাকি লিটন মামার দোকানের সামনে”

রিক্সাওায়লা যেন খুব খুশি, ঠোঠের কোনায় হাসি নিয়ে জবাব দিলেন “হুম মামা।”

চৌধুরী সাহেব রিক্সায় ওঠার আগে রাস্তার পাসের দোকান থেকে একটা সাদা রং এর ধুম্রশলাকা টানা শুরু করে। সকাল বেলায় নাস্তা করা হউক আর নাই হউক, একটা সাদা রঙের ধুম্রশলাকা তার লাগবেই। আর ১০০ টাকার নোট রিক্সায়ালাকে দিলে ভাড়া ১৫ টাকা রেখে দিতে পারে। সুতরাং, টাকা খুচরা করা হয়ে গেল সাথে। তাও যদি আবার হয় এই অমৃত কেনার সুযোগে তাইলেত আর কথাই নাই।

সকালের রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা। কিছু মানুষ সকালের নাচনকোদনে করছে। যে করেই হউক ডায়বেটিস, অগ্রায়মান ভুঁড়ি টাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

রিক্সায় উঠে ধুম্রশলাকার অমৃত ধূয়া পান করতে করতে প্রশ্ন করে, “মামা, বাড়ি কই আপনার?”

রিক্সাওয়ালার উত্তর “কেশবপুর”

আর কোন কথা নেই। এরপর চৌধুরী সাহেব মন দিয়ে অমৃত পান করতে থাকে। মিনিট ৫ পরে, লিটন মামার দোকানে এসে পৌঁছায় যায়।

চৌধুরী সাহেব “পকেট থেকে ১০ টাকার একটা নোট বের করে দেয়।” আর মনে মনে ভাবতে থাকে রিক্সাওয়ালা হয়ত আরো ৫ টাকা দাবি করে বসতে পারে। এই জন্য কোন কথা না বলেই একটু দ্রুত পায়ে তার মুখের দিকে না তাকিয়ে হেঁটে চলে যায়।

রিক্সাওয়ালা কোন কথা না বলে, রিক্সা ঘুরাতে থাকে।

চৌধুরী সাহেবের অবস্থা এখন অনেকটা “যাক বাবা, বাইচা গেলাম।”

লিটন মামা, তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, “ক্যামন আছেন, মামা?”

চৌধুরী সাহেব “এইত মামা, চলছে আর কি? দ্রুত ৩টা পরাটা আর সাথে ডিম পোজ দিয়েন। কুসুম যেন না ভাঙ্গে।” সে কোথায় যেন পড়েছে দেশে এখন নকল ডিম বিক্রি হয়। যে সব ডিমের কুসুম ভেঙ্গে যায় না, ঐ গুলা আসল ডিম।

মনে মনে ভাবতে থাকে “টাকা দিয়ে ডিম কিনে খাব, সেখানেও শান্তি নেই।”

লিটন মামার তখন হাসি মাখা উত্তর “দিতাছি মামা, একটু দাঁড়ান।”

চৌধুরী সাহেব তখন আবারো মনেমনে ভাবতে থাকে “শালা! লিটনের পরাটার সাইজ দিন দিন পুরি সাইজ হচ্ছে কিন্তু দাম ৫ টাকা। লিটনের দোকানের পাসে একটা পরাটার দোকান দিলে ভালই লাভ হত।”

হাতের সেই অমৃতটা তখন প্রায় শেষের পথে। সে যে টেবিলে বসছে ঠিক তার বিপরীত পাশে দুই জন বসা ছিল। অমৃতর ধূয়া একবার ছাড়ার সাথে সাথে তার উঠে গিয়ে পাসের টেবিলে বসল।

অমৃতর পশ্চাতে সুখ টান দিতে দিতে ভাবে, পৃথিবীতে এই অমৃতর জন্ম দাতারে সামনে পাইলে সে একটা মনুমেন্ট করে রাখত। আসলে, মানুষ মেধাবীদের কদর করতে জানেনা। না, হইলে এইরম একটা মহান মানুষের কোন ছবি থাকবে না?

এর মধ্যে লিটন মামা, পরাটা আর সাথে স্পেশাল ডিম পোজ নিয়ে হাজির।

চৌধুরী সাহেবের মুখে বিরক্তির ছাপ “মামা, এইডা কি করলেন? ডিমের কুসুমটা ফাটায় ফেলছেন? এইটা নিয়ে জান, আর আমারে একটা বড় সাইজের ডিম পোজ করে দেন। কিন্তু মনে রাখবেন কুসুম যেন না ফাটে।”

লিটন মামা কোন কথা না বলে, দাঁত বের করে ডিমের প্লেট নিয়ে চলে যায়। নতুন করে ডিম ভাজি করে এনে দেয়।

চৌধুরী সাহেব মহাখুসি।

খাওয়া শেষ করে, “মামা, একটা সাদা অমৃত দিয়েন।”

অমৃতর পশ্চাতে টান দিতে দিতে, “মামা, তাহলে সব মিলায়ে কত হল?”

লিটন মামা আবার সেই দাঁত গুল বের করে দিয়ে বলে “৩৯ টাকা।”

চৌধুরী সাহেব পকেট থেকে “২০ টাকার দুইটা নোট বের করে দেয়।”

লিটন মামা “এইবার ১ টাকার একটা চকলেট বের করে দেয়”

রিক্সায় করে, আবার বাসার দিকে রওনা দেয়। কিন্তু, এই বারের রিক্সওয়ালা একটু ঘাউড়া টাইপের। তাকে ১৫ টাকা দেয়া লাগবেই। চৌধুরী সাহেব তখন মাথাইয় রক্ত উঠে যায়। সে জন্ম থেকেই শহরে, তার সাথে তর্ক করছে ছোট লোকের সাহসত মন্দ না।

সে বলে ওঠে “শূয়রের বাচ্চা, আমি জন্ম থেকে এই রাস্তায় চলি। বুকাচুদা তোর কাছ থেকে আমার নতুন করে ভাড়া জানা লাগবে।”

আধুনিক সভ্য চৌধুরী সাহেবের এই অতিমাত্রায় সভ্য শব্দ গুল শুনে শুয়ারের বাচ্চার (চৌধুরী সাহেবের মতে), একদম আগুনে জল পড়ার মত অবস্থা।

চৌধুরী সাহবের মুখের গতি যেন কয়েক গুন বেড়ে গেল। আরো কিছু সভ্য শব্দ বের হয়ে আসল। রিক্সাওয়ালা আর কোন কথা না বলে অস্পষ্ট ভাবে কি যেন বলতে বলতে চলে গেল।

চৌধুরী সাহেব বাসায় ঢোকার সময় দেখে, তার প্রিয় বন্ধু – নাম পাগলা। এই নামটা অবশ্য চৌধুরী সাহেবের নিজের দেয়া। কারন, ওর কথা বার্তা, কাজ সম্পূর্ণ পাগলা কিসিমির।

ওর চিন্তা গুলা সম্পূর্ণ পাগলের সাথে মিসে যাবে। তার কয়েকটা নমুনা শুনলে আপনি হাসতে হাসতে মরে যাবেন। টম এন্ড জেরি দেখা লাগবে না শত ভাগ গ্রান্টি।

কোন একবার মাথায় চিন্তা আসল পৃথিবীর সব মানুষের যদি রং ধনুর সাত রঙের সাতটা পোশাক থাকত তাহলে কত সুন্দর হত। সপ্তাহে সাত দিনে সাত রঙের পোশাক পরে সবাই ঘুরে বেড়াত। পৃথিবীর সবার অই সাতটা পোশাক থাকবে। আমি কইলাম তাতে লাভ কি?

উত্তরঃ “সবাই খুশি থাকত। মনেকর ঈদের দিনে একটা মাঠে সবাই নামাজ পড়ছে। সবার একই রঙের পাঞ্জাবী, পাজামা। একবার চোখ বুঝে চিন্তা করে দেখ কেমন হবে ব্যাপারটা। কারও পোশাক দেখে কারো মনে হবে না “ইশ, যদি আমার পোশাকটা ঐরকম হইত।””

দুই জন কোন একদিন বিকালে হাঁটতে বের হইছি। হটাত করে বলে উঠল “ধন্যবাদটা নেয়া হল না।”

আমি কইলাম “কি কস? ক্লিয়ার করে ক।”

বলল “ইংরেজদের কাছ থেকে অনেক কিছু নিলাম কিন্তু ধন্যবাদটা নেয়া হল না। কোন বাস চালক, কন্ট্রাকটারকে বলিনাই, ধন্যবাদ। কিন্তু, যদি এ্যাক্সিডেন্ট করে তাহলে অই দিন তাদের কপালে দুঃখ আছে। যদি দুর্ঘটনায় কিছু না হয়, তাহলে আরো বেসি দুঃখ। কারণ, আসে পাসের মানুষ তাকে হাসপাতালে কয়েক মাস শুয়ে থাকার একটা স্থায়ী সমাধান দিয়ে দিবে। বাসের মধ্যে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করা, এইটা ত আমাদের চরিত্রের অন্যতম দিক”।

কোন দোকানে খাইতে গেলে ছোট বাচ্চা কাজ করলে তাকে “পিচ্চি” বলে ডাকছে আমার মনে পড়ে না। ও বলে “বাচ্চাদের নাম ধরে অথবা বড় ভাই বলে ডাক দেখবি ভাল লাগবে”।

কোন একদিন সকাল বেলা আইসে বলে, “কোন কিছু সামধান খোজার জন্য সব থেকে ভাল জায়গা হল প্রকৃতি। মনেকর, তুই আসলে বুঝতে পারছিসনা অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য কি পরিমাণে টাকা কোন এলাকায় দেয়া দরকার। এই জন্য তুই নিজে কিন্তু একটা সমাধান। তুই কি রক্তের ম্যাথ জানিস? মানে হল আমাদের শরীরের সব জায়গায় কিন্তু সমান ভাবে রক্তের চাহিদা না। আবার এই যে তুই তিন মাস পর পর রক্ত দান করিস অই সময় শরীর কি ভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করে? শরীরের রক্তের ষ্টক রাখারত কোন জায়গা নেই? এই গুল যদি তুই ভাল ভাবে জানতে পারিস তাহলে তুই অনেক ভাল ভাবে টাকা বণ্টন করতে পারবি।”

এর পর সামনে ডাক্তার পাইছে আর তার কাছে রক্তের ম্যাথ নিয়ে প্রশ্ন করে নাই এমন লোক খুজে পাওয়া যাবে না।

এই রকম আরো চিন্তা আছে, সেই সব নিয়ে অন্য একদিন বলব। আসেন তার আগে জানা দরকার আজকে কি কারনে আইছে। কি আবার নতুন পাগলামি।

বাসার ভেতর ঢুঁকে প্রথম প্রশ্ন “আজ সকাল থেকে তোর খরচ কত?”

আমি হিসাব করে কইলাম “৭২ টাকা”

এই বার বলা শুরু করল “এই ৭২ টাকা খরচ করে, তুই যে পরিমাণে খুশি হইছিস ঐটাকে যদি আমি শতকরায় প্রকাশ করি তাহলে সেইটা হবে ১০০।

এইবার মনেকর তুই যদি ৭২ টাকা থেকে ৩৬ টাকা, হাসানকে (প্রতিদিন সকালে পেপার দিয়ে যায়) দান করে দিতি তাহলে কি হত। তখন, তোর কাছে দুই ধরনের খুশি থাকত।

  • ৩৬ টাকা নিজে খাওয়ার খুশি
  • ৩৬ টাকা দান করে দেয়ার খুশি

তাহলে তোর ঐ ৭২ টাকার আগের খুশি ছিল ১০০ কিন্তু এখনঃ

মোট খুশি = সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে খাওয়ার খুশি + দান করার খুশি

১৫০  = (৫০ + ৫০) + (৫০ + ০)    [যেহেতু হাসান কোন দান করি নাই এই জন্য ০, আর তুই যেহেতু অর্ধেক দান করছিস এই জন্য ৫০]

যদি তিন জনের মধ্যে ভাগ করে দিস তাহলে কি হতে পারেঃ

২০০ = (৩৩.৩৩ + ৬৬.৬৭) + (৩৩.৩৩+ ৩৩.৩৪) + (৩৩.৩৪ + ০)” [তোর দান = ১০০ – ৩৩.৩৩ = ৬৬.৬৭, আর হাসান = (৫০-৩৩.৩৩)*২ [এই খানে ২ই  দিয়ে গুন করে শতকরায় প্রকাশ করলাম]

তাহলে, আমার যদি এইটাকে একটা সুত্র আকারে লিখি তাহলে হবেঃ

মোট খুশি = (ক – ১)*খ + ১০০             । ক = কত জনের মধ্যে ভাগ করা হবে

                                                                । খ = ভাগের পরিমাণ শুরু

এই ভাবে তুই যদি খুশি বাড়ানর কথা চিন্তা করিস তাহলে কোন মানুষ আর না খেয়ে থাকবে। তোর খাবার তুই যত অন্য মানুষের মধ্যে ভাগ করে দিবি তত তুই খুশি হবি অন্যদিকে একজন অভুক্ত মানুষ খাবার পাবে।

আমি রক্ত নিয়ে যখন প্লান করছিলাম, তখন হটাত করে মনেহল এত নিয়মনীতি, প্লান সবই করার চেষ্টা করছি মানুষকে নিন্ত্রন করার জন্য।

আসলে মানুষ পরিবর্তন হয়ে গেলেইত সব কিছু সমাধান হয়ে যায়। আমার ম্যাথে ভুল থাকতে পারে কিন্তু তুই কাজটা করে দেখ। খুশি, শান্তি দুইটাই পাবি যতটা কোন দিন চিন্তাই করতে পারিস নাই।

হাসানের প্রিয় খাবারের নাম কচু শাঁখ, আর তোর বারবিকিউ। কিন্তু, কি অদ্ভুত ব্যাপার জিনিস এই দুইটা পদার্থ যদি ভাঙ্গা শুরু করিস তাহলে ভাঙ্গে ভাঙ্গেত আর যখন ভাঙ্গা সম্ভাব হবে না তখন দেখবি কচু শাঁখ আর বারবিকিউ এর মধ্যে অতটা পার্থক্য নেই যতটা নাম দুইটা শোনার পর তোর কাছে মনে হয়।

চৌধুরী সাহেব হটাত বলে ওঠেন “এত ভাঙ্গাভাঙ্গি করার মত সময়, সুযোগ কোনটাই আমার কাছে নাই।”

পাগলা বন্ধু উত্তরঃ “তোর ভাঙ্গাভাঙ্গি করা লাগবে না। এই যে পরশু দিন তুই গতপরশু রাতে বন্ধুদের সাথে বারবিকিউ পার্টি দিলি। আইচ্চা, সকাল বেলা যখন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিলি তখন তার রং কিছিল? মনে আছে তোর?”

চৌধুরী সাহেব সভ্য লোক- “তোর মুখে কি কোন কিছু আটকায় না। একটা ভাল উদাহরণ দিতি। এখন থেকে বারবিকিউ খাইতে গেলে ঐ রং মনেপড়বে। খাবো কি করে?”

পাগলা আবারো হাসতে হাসতে তার লেকচার শুরু করে “আসলে কোন রাতে তুই যদি বারবিকিউ না খেয়ে ঘুমাইস তাইলে কিন্তু মারা যাবি না।

মনেকরে কোন রাতে তুই শুধু মাত্র এক প্লেট ভাত, আর ডাল খেয়ে ঘুমায় গেলি। সকালের ফলাফলের কিন্তু পরিবর্তন হবে না। সেই বারবিকিউ খেয়ে ঘুমালে যা ফলাফল আসত, সেই একই অবস্থা। কিন্তু, বারবিকিউ এর সাথে তুই যদি ডাল পরাটার দামের তুলনা করিস তাহলে দেখবি কত পার্থক্য।”

আর যতই ভাল খাবার খাইস, সকাল বেলা হাগু করার সময় তার রং কিন্তু হলুদএমন কোন দিন হবে না, যে আজকে বারবিকিউ খাইলি আর সকাল বেলা তোর হাগুর কালার গোলাপি হয়ে গেল। আমি যদি প্রশ্ন করি তোর প্রিয় খাবার কি? তাহলে হয়ত উত্তর দিবি “স্পেশাল থাই সুপ, বারবিকিউ”। কিন্তু এই খানে চিন্তা কইরে দেখ তুই তোর জিহ্বাকে বেশি গুরুত্ব দিছিস, আনন্দকে দিস নাই। যদি আনন্দকে গুরুত্ব দিতিস তাহলে হয়ত তোর প্রিয় খাবার হত “ঝাল, পিঁয়াজ, সরিষার তেল দিয়ে এক গামলা মুড়ি নিয়ে কয়েক জন মিলে খাওয়া।”

বিশ্বাস করিস আর নাই করিস, আজ যে মানুষটা টাকার অভাবে না খেতে পেয়ে ঘুমায় যাবে সে তোর আমার থেকে অনেক বেশি লাকি। সে যদি রাতে ঘুমানর আগে সৃস্টি কর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করে “কেন পৃথিবীতে খাবারের অভাব না থাকলেও আজকে তার খাওয়া হল না ,তখন কিন্তু তুই আমি সব আসামি হয়ে যাব”।

কারন, ঐ মানুষটার খাবার তোর, আমার মত কিছু মানুষের কাছেই ছিল। আসলে পৃথিবীতে খাবারের অভাব নেই, শুধু আছে মানসিকতার অভাব

একটা লম্বা লেকচার দিয়ে পাগলাটা চলে যায়।

চৌধুরী সাহেব তখন বসে বসে ভাবতে শুরু করে। রাস্তার কুকুর গুল খাবার পেলে কামড়া কামড়ি শুরু করে। আমিও কি তাহলে ঐ পর্যায় চলে গেলাম। দেখার চেষ্টা করে রাস্তার কুকুর আর তার মধ্যে কি পার্থক্য? অনেক চেষ্টা করে শারীরিক গঠন ছাড়া আর কোন অমিল খুঁজে পায় না। বরং কোন কোন জায়গায় কুকুর গুলর অবস্থা তার থেকেও বেশি ভাল।

কুকুর গুল মনিবের জন্য নিজের প্রান দিয়ে দিতে রাজি, আর আমি? দেশের খেটে খাওয়া মানুষ গুলর দেয়া টাক্সের টাকায় বেতন পাই, আবার তারা কোন কাজ করাতে আমার কাছে আসলে ঘুষ নেই।

তাহলে কি আমার সন্তান বড় হয়ে বলবে “আমার বাবা একজন বিশিষ্ট ঘুষখোর।” আর মরে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষ বলবে “ঘুষখোরটা মরে গেছে।

আজ থেকে ঘুষ খাওয়া বন্ধ। ধন্যবাদ বলা শুরু করতে হবে।

রাতের বেলায় লিটন মামার দোকানে পরাটা খেতে যাওয়ার সময় আবার সকাল বেলার মত রিক্সায় যায়। রক্সাওয়ালাকে ২০ টাকার একটা নোট দিয়ে। কোন কথা না বলে লিটন মামার দোকানে ঢুকতে যায়। হটাত, পেছন থেকে রিকশাওয়ালা ডাকতে শুরু করে “মামা, দাড়ান। আপনি আরো ৫ টাকা পাইবেন। ভাড়া ১৫ টাকা।”

বলতে বলতে ৫ টাকার একটা নোট নিয়ে তার কাছে চলে আসে। আর হালকা কালো রঙের দাঁত গুল বের করে বলে “মামা, মনেহয় এই এলাকায় নতুন।”

চৌধুরী সাহেব কি উত্তর দিবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না শুধু মাথা নেড়ে বলে “হুম”

আর সাথে সাথে প্রশ্ন করে “রাত অনেক হইছে, আসেন এক সাথে খাই।”

লিটন মামাকে ডেকে বলে “দুই জায়গায় পরাটা দিয়েন।”

খাওয়া শেষ করে দুই জন। বিল দিতে যেয়ে লিটন মামাকে চেষ্টা করে ধন্যবাদ বলার জন্য। কিন্তু, জিহ্বাটা কে যেন ধরে রেখে দিয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও বলতে পারে না।

খাওয়া শেষ হওয়ার পর ঐ রিক্সাওয়ালা মামা তাকে বাসা পর্যন্ত পৌছে দেয়।

বাসায় আসার পর ছাদে যেয়ে অনেক সময় বসে থাকে। আকাশে চাঁদ নেই। কিন্তু, এই ঘুটঘুটে অন্ধকার কত সুন্দর। জিবনে অনেক দিন হইছে এই রকম ছাদে তারা বারবিকিউ পার্টি দিছে। কিন্তু, আজকের মত ভাল তার আগে কোন লাগেনি।

ছাদে ৩০ মিনিটের মত থাকার পর, তার রুমে চলে আসে। রুমে ঢোকার পর এসি টা অন করে। কিন্তু, কিছু সময় পরে আবার বন্ধ করে দেয়।

কয়েক মাস পরে

চৌধুরী সাহেবের পাগলা বন্ধুর সাথে কয়েক দিন আর দেখা হয় না। সে গ্রামের বাড়ি গেছে কয়েক দিনের জন্য। এর মধ্যে চৌধুরী সাহেব নতুন একটা বাসা নিছে, এক রুমের ছোট একটা বাসা, ছাদের উপর। কোন এসি নেই, ইলেকট্রিক ফ্যান নেই। ছাদের উপর ঐ গুল লাগে না।

সে এখন ঘুষ না খাওয়ার জন্য চেষ্টা করে। পাগলা বন্ধুর মত দিনে এক বেলা খায়। আগে না খেতে পারলে কষ্ট হত, এখন আর হয় না। কেমন যেন মনেহয় “এখন সে আর আসামি না।”

মানিব্যাগে ধন্যবাদ লেখা এবং হাসিমুখ আঁকান কিছু কাগজ সব সময় থাকে। চেষ্টা করে ধন্যবাদ বলার জন্য, কিন্তু না পারলে কাগজ দিয়ে মাথা নিচু করে চলে আসে।

মায়ের কাছ থেকে ডাল কি ভাবে রান্না করতে হয় শুনে নিয়েছে। প্রত্যেক দিন ডাল, আর আলু ভাতে। তার কাছে অমৃত মনেহয়। তার এখন আর আগের মত ধুম্রশলাকা পান করা লাগে না।

একটা সময় সে বিশ্বাস করত ১০০ জন খারাপ মানুষের মধ্যে ১০ জন ভাল মানুষ থাকলে তারাও কিছু দিন পর খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু, এখন সে আর এই কথা বিশ্বাস করে না। মনেকরে, ঐ ১০ জন মানুষ যদি খারাপ হয় তাহলে তারা আসলেই কোন দিন ভাল মানুষ ছিল না। তাদের মনের মধ্যে শয়তানি অনেক আগে থেকেই ছিল, উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে শুধু সুপ্ত অবস্থায় ছিল। ভাল জিনিস কখন খারাপ হয় না।

পাগলাটা তার নতুন বাসায় এখনো কোন দিন আসে নি। তখন সে ভাবতে থাকে আজকে ওর সাথে একটু দেখা করা দরকার।

বিকালে হাটতে হাটতে ওর বাসার দিকে জেতে থাকে।

ছোট বেলায় তার বাবার বলা কথা গুল এখন তার খুব মনেপড়ে।

মনেপড়ে, তার বাবা বলত “বড় হয়ে আমার ছেলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার কিছুই হবে। শুধু মানুষ হবে”

ছোট বেলায় লেখাপড়া করার জন্য তার বাবা-মা কোন দিন তাকে প্রেসার দেইনি। শুধু, বলত বড় হয়ে মানুষ হবি। আর মানুষ হতে লেখাপড়া লাগে না।

এখন বাবা-মায়ের উপর মাঝে মাঝে উপর অনেক রাগ হয় তার। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার অথবা ব্যাংকার এই গুল যদি তাদের ইচ্চা থাকত তাহলে সে হতে পারত। কারণ, টাকা দিলে সে এখন ঐ গুল হতেই পারে। কিন্তু, মানুষ হবে কি করে? টাকা দিয়ে মানুষ হওয়া যায় না।

বাবার সেই কথাটা সব সময় মাথার মধ্যে ঘোরে “এ পৃথিবীর সবাই খারাপ, তোর ভাল হতে দোষ কোথায়?”

হটাত করে কে যেন তাকে পিছন দিক থেকে ডাক দেয়। তাকিয়ে দেখতে পায় তার সেই পাগলা বন্ধুকে।

দুই জনিই দাঁত বের করে হাসতে থাকে।

এরপর কি যেন আলোচনা করতে করতে তারা দুই জন হাঁটা শুরু করে।

এত সময় যদি আপনি গল্পটা পড়ে থাকেন তাহলে, ধন্যবাদ।

এখন কথা হল, এই সাইটে পোস্ট করা কোন আর্টিকেল যদি আপনার ভাল লাগে। তাহলে ঐ আর্টিকেল আপনি যে কোন জায়গায় আপনার নামে পোস্ট করতে পারেন।

আপনার নিজের জানা বিষয় গুল অন্যের সাথে শেয়ার করেন। একবার চিন্তা করেনত যদি নিউটন তার সুত্র গুল নিজের মনে করে তার কাছে রেখে দিত তাহলে কি হত?

আপনার নিজের জানা বিষয় গুল অন্যের সাথে শেয়ার করেন। একবার চিন্তা করেনত যদি নিউটন তার সুত্র গুল নিজের মনে করে তার কাছে রেখে দিত তাহলে কি হত?

আমার লেখা কোন কিসুর উপর কোন কপিরাইট নেই। আপনি যেখানে ইচ্ছা, আপনার নামে ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই আপনি কোন বাণিজ্যিক উদ্দ্যেশে ব্যবহার করবেন না।

আপনার জন্য শুভ কামনা রইল।

আবার,

“এ পৃথিবীর সবাই খারাপ, আপনার ভাল হতে দোষ কোথায়?”