এসইও হাতে খড়ি – অধ্যায়ঃ এক

আর্টিকেল পড়ার নিয়মাবলী

জুনিয়ার এসইও প্রফেশনাল টাস্ক লিস্ট এবং ফ্রি এসইও অনলাইন কোর্স ও সাপোর্ট

আপনি যদি শূন্য অধ্যায়টা ভাল ভাবে পড়ে থাকেন তাহলে সার্চ ইঞ্জিন সম্পর্কে আপনার একটা ধারনা হয়ে যাওয়ার কথা। এখন কথা হল, সার্চ ইঞ্জিন কি ভাবে কাজ করে? আসলে সার্চ ইঞ্জিনের প্রধান কাজ হল দুইটাঃ

  • ক্রলিং এবং ইন্ডেক্সিং করা
  • সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারকারীদের তথ্য প্রদান করা

ক্রলিং এবং ইন্ডেক্সিংঃ

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন, আমি ঢাকা যেয়ে রিকসায় উঠতে খুব ভয় পাই। এর প্রধান কারণ হল প্যাচাল রাস্তা ঘাট। মনেহয়, কোন রাস্থা দিয়ে কোন খানে নিয়ে যাবে, আমি পরে আর খুঁজে বের করতে পারবনা। এর থেকে হেঁটে হেঁটে চলা ফেরা করা অনেক সোজা। হারানোর কোন ভয় নেই।

এই সমস্যার সব থেকে ভাল সমাধান হল গুগল ম্যাপ। এই খানে নাই, এমন কোন কিছু নেই। যে কারণে, আমি হেঁটে চলেও আমার প্তহ হারানোর কোন সম্ভবনা নেই।

গুগল ক্রলারের কাজটা অনেকটা এই রকম। সারা ওয়েবের সব ডাটা এক জায়গায় করে এমন ভাবে রাখা যেন যখন দরকার হয় তখন সব থেকে ভাল লিংক গুল তাদের ক্রম অনুযায়ী চলে আসে।

এখন কথা হল ক্রলার কি ভাবে এক লিংক থেকে অন্য লিঙ্কে যায়। এর মুল কারন হল লিংক স্ত্রাকচার। যখন ক্রলার পেজ গুলা পায়, তখন সে ডাটা বেজে ঐ পেজ সংরক্ষণ করে রাখে। এমন ভাবে রাখে যেন পরবর্তীতে যখন দরকার হবে খুব দ্রুত বের করে নিয়ে আসা যায়। চোখের পলকে এই কাজটা করার জন্য সার্চ ইঞ্জিন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গুল সারা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ডাটা সেন্টার গড়ে তুলেছে।

এই হিমালয়ের মত ডাটার পাহাড় নিয়ে মেশিন গুল সব সময় কাজ করে চলেছে দ্রুত ইনফর্মেশন দেয়ার জন্য। আপনি যখন কোন কিছু লিখে সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করেন তখন চোখের পলকে ডাটা এনে আপনার সামনে স্কিনে হাজির করে।

কয়কে সেকেন্ড দেরি হলে আমাদের মাথা ঠিক থাকে না। ইন্টারনেট স্লো গতির হওয়ার কারণে অনেক সময় পেজ ওপেন হতে দেরি হয়। তখন কি অবস্থা হয় যে এই সমস্যার মুখমুখি হইছে সে খুব ভাল করে জানে। তবে ইন্টারনেটের গতি ভাল থাকবে আর আপনি ভাল সার্ভিস পাবেন না এই ঝামেলা এড়ানোর জন্য সার্চ ইঞ্জিন সব সময় চেষ্টা করে দ্রুত ফলাফল দেয়ার জন্য।

ফলাফল প্রকাশঃ

সব সমস্যার সমাধান আছে মামুর কাছে। আপনি গুগলের কাছে যে কোন প্রশ্ন করতে পারেন। তার একটা ভাল উত্তর আপনি পাবেন। তাহলে, সার্চ ইঞ্জিনকে যদি আমার উত্তর প্রদানের মেশিন বলে ডাকি তাহলে মনেহয় ভুল হবেনা।

আপনি যখন কোন কিছু লিখে সার্চ ইঞ্জিনে ইন্টার কি সজোরে আঘাত করেন তখন সার্চ ইঞ্জিনের কাজ হয় দুইটা।

  • আপনার কিওয়ার্ড মোতাবেক সব রিলিভেন্ট তথ্য গুল সামনে নিয়ে আসা
  • কিন্তু সব আর্টিকেলকেত আর ১ নাম্বারে নিয়ে আসা যাবে না। এখন গুণগত মান অনুযায়ী তাদেরকে সাজিয়ে র‍্যাঙ্ক করে আপনার সামনে হাজির করা

রিলিভেঞ্চি এবং পপুলারিটি এসইও এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কি ভাবে সার্চ ইঞ্জিন পপুলারিটি এবং রিলিভেঞ্চি ঠিক করে?

মনেকরেন, আপনি সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করেলন কি ভাবে এসইও শেখা যায়। এরপর উত্তর গুল আসলে কি ভাবে পাইথন শেখা যায়। তখন আপনার মাথা ঠিক থাকবে? সার্চ ইঞ্জিনের কাজ হল এসইও কি ভাবে শেখা যায় সেই ফলাফল গুল আপনার সামনে নিয়ে আসা।

সময়ের সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন আগের থেকে অনেক বেশি দক্ষ হচ্ছে। সার্চ ইঞ্জিন রিলিভেঞ্চি বের করার জন্য কয়েক’শ ভেরিয়াবেল ব্যবহার করে থাকে। এই গাইডে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভেরিয়াবেল নিয়ে আলোচনা করা হবে।

সার্চ ইঞ্জিন মনেকরে যে জিনিস জত বেশি জনপ্রিয় তার গুণগতমান তত ভাল। কারন কোন জিনিস জনপ্রিয় হতে গেলে যারা সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে তাদের কাছে ভাল লাগা লাগবে।

পপুলারিটি এবং রিলিভেঞ্চি, এই দুইটা জিনিস কিন্তু ম্যানুয়ালি করা হয় না। এই খানে ইনডেক্সিং ব্যবহার করা হয়। আপনার যদি ইনডেক্সিং সম্পর্কে ধারনা থাকে তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। কোন আর্টিকেল রিলিভেঞ্চি বের হয়ে গেলে, পপুলারিটির মাধ্যমে রাঙ্ক করা হয়।

ইনডেক্সিং এর এই এ্যালগোরিদামে কয়েক’শ ভেরিয়াবেল ব্যবহার করা হয়। এই ভেরিয়াবেল গুলকে আপনি র‍্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর বলতে পারেন। আপনার কাছে যদি কোন সার্চ ইঞ্জিন রাঙ্কিং ফ্যাক্টরের লিস্ট থাকে তাহলে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে।

কি ভাবে সার্চ ইঞ্জিনে ভাল করবেন?

সার্চ ইঞ্জিনের রাঙ্কিং ফ্যাক্টরের এ্যালগোরিদাম অনেক বেশি মাত্রায় জটিল। আপনি যদি ইতি মধ্যে লিস্টটা দেখে আসেন তাহলে আপনার কাছে মনেহবে এসইও তে ভাল করা মনেহয় কোনদিনই সম্ভাব না। কিন্তু, আমার মনেহয় এত চিন্তা না করে তাদের দেয়া নিয়ম নিতি মেনে আপনি জদি কাজ করে জান তাহলে আপনি ভাল কিছু করবেন, ১০০% গ্রান্টি। তাহলে চলে দেখে আসি এসইওতে ভাল করার জন্য বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের উপদেশ গুল কি?

গুগল ওয়েবমাস্টার গাইডলাইন

চলেন দেখে আসি গুগল কি বলছে তার সার্চ ইঞ্জিনে ভাল করার জন্যঃ

  • সাইটের পেজ গুল করার সময় ভিজিটরের কথা মাথায় রেখে করেন, কখনই সার্চ ইঞ্জিনকে প্রথম প্রাধান্য দেয়ার দরকার নেই
  • কখনই ভিজিটরের সাথে ফাইযলামি করার চেষ্টা করবেন না। এক ধরনের কন্টেন্ট দেখাইলেন আর পড়ার জন্য ক্লিক করার সাথে সাথে অন্য জায়গায় নিয়ে হাজির করলেন যে খানে পূর্বের লেখার সাথে কোন মিল নেই।
  • পেজ গুলার লিংক করার সময় পদ মর্যাদা অনুযায়ী লিংক করেন। একটা স্কুলে যেমন প্রথম থাকনে প্রধান শিক্ষক তার পর ক্রম অনুযায়ী অন্যান্য শিক্ষক ঠিক তেমনি।
  • কোন ভিজিটর আপনার সাইটে যেয়ে যদি দেখে শুধু পেজ আছে কোন লেখা নেই, তাহলে সে আপনার ঐ খানে যেয়ে কি করবে। আর ভিজিটর যদি সন্তুষ্ট না হয় তাহলে সার্চ ইঞ্জিনো সন্তুষ্ট না। সুতরাং, ভাল মানের ইনফর্মেশন দেয়ার চেষ্টা করেন। অবশ্যই যেন <title> এবং ALT যে খানে যে ভাবে ব্যবহার করার নিয়ম আছে ঠিক ঐ ভাবে যেন ব্যবহার করা হয়।
  • লেখার ভেতরে কিওয়ার্ড ব্যবহার করেন কিন্তু কখনই যেন ভিজিটের কাছে বিষয়টা বিরক্তিকর না মনেহয়।

বিং ওয়েবমাস্টার গাইডলাইনঃ

  • কিওয়ার্ড ইউরল ব্যবহার করেন এবং অবশ্যই যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন
  • অতিমাত্রায় অ্যাডোব ফ্ল্যাশ প্লেয়ার, জাভাস্কিরপ্ট, এজ্যাক্সের ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন এবং যদি ঐ গুল ব্যবহার করেন তাহলে দেখবেন যেন কোন ধরনের হাইড লিংক না থাকে।
  • নিয়মিত কন্টেন্ট দিতে থাকেন। আগেই বলছি লেখার মধ্যে কিওয়ার্ড ব্যবহার করেন কিন্তু কোন ভাবেই যেন সেটা কিওয়ার্ড স্পামিং এর পর্যায় না পড়ে।
  • কখনই আপনার লেখা যেন কোন ছবির মধ্যে না থাকে। মনেকরেন, আপনার সম্পূর্ণ লেখটা একটা সাদা কালো ছবির উপরে লেখা। এবং সেখানে আপনি আপনার বিজনেসের যোগাযোগের ঠিকানা দিয়ে দিছেন। আপনার যদি মনেহয় আপনার বিজনেসের যোগাযোগের ঠিকানাটা ইনডেক্স হওয়া দরকার, তাহলে অবশ্যই সেটা যেন টেক্সট ফরমেটে লেখা হয়। আপনার বিজনেসের লোগোর মধ্যে দিয়ে কোন লাভ নেই।

এখন কথা হল, এই খানে আমি যে গুল উল্ল্যেখ করছি এই গুলাই কিন্তু শেষ না। আপনি যদি প্রত্যেকটা সার্চ ইঞ্জিনের ওয়েবমাস্টার গাইড লাইন পড়েন এবং সে গুল অনেক ভাল ভাবে বুঝতে পারেন তাহলে আপনি এসইওতে ভাল করবেন, গ্রান্টি ১০০%।

“তাহলে কি আমার উপরের ওয়েবমাস্টার গাইডলাইন ছাড়াও আর পড়া লাগবে এবং পড়ার আছে?”

আপনার মনের মধ্যে যদি উপরের প্রশ্নটা ঘুরতে থাকে। তাহলে উত্তর “অবশ্যই, আপনাকে আরো পড়তে হবে।”

এক্সপেরিমেন্টঃ

আসেন একটা এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা যাকঃ

  • “jkhsghjfdg” এই রকম কোন একটা কিওয়ার্ড নিয়ে ডোমেইন রেজিস্টার করেন। এই কাজটা আপনি ব্লগস্পট করতে পারেন।
  • এখন কিছু পেজ করে ফেলেন
  • এই বার কিছু কন্টেন্ট দিয়ে দেন এবং সাথে সাথে ঐ কিওয়ার্ড ব্যবহার করেন।
  • সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হওয়ার পর প্রত্যেকটা পেজের রাঙ্কিং লিখে রাখেন।
  • এর পর সোশ্যাল মিডিয়াতে পেজ ওপেন করে, ধিরে ধিরে আর্টিকেল গুলা শেয়ার করেন এবং পেজ রাঙ্কিং গুল লিখে রাখেন।
  • সময় থাকলে কিছু ব্যাকলিংক করে দেন।
  • কোন একটা আর্টিকেল ১০০০+ ওয়ার্ড দেন, আবার কোনটা ৩০০ শব্দের।

এই ভাবে আপনার মনের মত করে কয়েক দিন এক্সপেরিমেন্ট করে ফেলেন। তখন দেখবেন, আপনি নিজেই বুঝতে পারছেন সার্চ ইঞ্জিনে ভাল করার জন্য আসলে আপনার কি করা দরকার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *